Header Ads Widget

ভারত-জাপান ম্যাচে চরম আম্পায়ারিং বিতর্ক! কে ঠিক?

ভারত-জাপান টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারের বিতর্কিত ওয়াইড সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ক্ষোভ প্রকাশের দৃশ্য।

রুদ্ধশ্বাস ভারত-জাপান ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়ে চরম বিতর্ক! ৩২ রান সম্বল করে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের পেছনের রহস্য

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও জাপান। আর প্রথম দেখাতেই ক্রিকেট বিশ্ব সাক্ষী হলো এক চরম নাটকীয়তার! বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচটি নেমে এসেছিল মাত্র ৫ ওভারে। যেখানে আগে ব্যাট করে ভারত সংগ্রহ করে মাত্র ৩২ রান। কিন্তু এই মামুলি পুঁজি নিয়েও জাপানকে ২ রানে হারিয়ে এক অভাবনীয় রেকর্ড গড়েছে ভারত।

তবে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সর্বনিম্ন রান ডিফেন্ড করে জেতার এই রেকর্ডের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে শেষ ওভারের আম্পায়ারিং বিতর্ক নিয়ে।

শেষ ওভারের সেই স্নায়ুচাপ ও বিতর্কের সূত্রপাত
ম্যাচের একদম শেষ ওভারে জাপানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৮ রান। বল হাতে তুলে নেন স্পিনার অক্ষর প্যাটেল। সমীকরণ যখন ৪ বলে ৭ রান, তখন ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা—

  • স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা জাপানের বাঁহাতি ব্যাটার আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর একটি রিভার্স-হিটের চেষ্টা করেন।

  • তিনি বলে ব্যাটের সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন এবং বলটি তার স্বাভাবিক লেগ সাইড দিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে জমা হয়।

  • কিন্তু জাপানি আম্পায়ার ক্রিস থারগেট অপ্রত্যাশিতভাবে এটিকে 'ওয়াইড' ঘোষণা করেন!

বিস্ময় যখন ক্ষোভে রূপ নেয়
আম্পায়ার ক্রিস থারগেটের ঝুলিতে ১৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু গত এক দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন বলে ওয়াইড দেওয়ার নজির নেই বললেই চলে। ভারতীয় খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই বিস্মিত হন।

কিন্তু বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে ঠিক তার পরের বলটি। অক্ষর প্যাটেলের পরের ডেলিভারিতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং আম্পায়ার থারগেট আবারও ওয়াইড কল করেন! এবার ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। তিনি সরাসরি আম্পায়ারের কাছে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


এলিট প্যানেলের আম্পায়ারের হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে এগিয়ে আসেন স্কয়ার লেগে থাকা নিউজিল্যান্ডের আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউন, যিনি আইসিসির এলিট প্যানেলভুক্ত। তিনি থারগেটকে তার ভুল ধরিয়ে দেন এবং সিদ্ধান্তটি সংশোধন করার পরামর্শ দেন। এরপর থারগেট তার দ্বিতীয় ওয়াইডের সিদ্ধান্তটি বাতিল করেন।

ক্রিকেটীয় আইন ঠিক কী বলছে?
বিশ্লেষণী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, আম্পায়ার থারগেটের প্রথম সিদ্ধান্তগুলো ক্রিকেটের আধুনিক নিয়মের পরিপন্থী ছিল।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী: কোনো ব্যাটার যখন রিভার্স-হিট বা সুইচ-হিটের জন্য পজিশন পরিবর্তন করেন, তখন উইকেটের দুই পাশকেই 'অফ সাইড' হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ, বলটি বাইরের স্টাম্প থেকে ৭৫ সেন্টিমিটারের বেশি দূরে গেলেই কেবল তাকে ওয়াইড বলা যাবে। ব্যাটার যদি শট খেলার ভান করে আবার স্বাভাবিক স্ট্যান্সে ফিরেও আসেন, তবুও এই নিয়ম বহাল থাকবে।

সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আইনি বৈধতা
ম্যাচটিতে কোনো টিভি আম্পায়ার বা ডিআরএস (DRS) প্রযুক্তি ছিল না। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে ওয়াইডের রিভিউ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখানে তা ছিল না। তবে ক্রিকেটের আইন বলছে, বোলার পরবর্তী ডেলিভারি করার আগে মাঠের আম্পায়ার চাইলে নিজের ভুল শুধরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। সেই আইনি এখতিয়ার বলেই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়েছিল। প্রথম ওয়াইডটি বাতিল না হওয়ার মূল কারণ ছিল আকস্মিকতা; কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরের বলের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল।


খেলার মাঠ থেকে আমাদের শিক্ষণীয়: নিয়মের জ্ঞানই আসল শক্তি
ক্রিকেট হোক বা আমাদের ব্যক্তিজীবন, শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় না; প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান ও আইনের ধারণা। ভারত-জাপান ম্যাচের এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সঠিক নিয়ম জানা থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের অধিকার আদায় করে নেওয়া সম্ভব। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার জন্যই এটি একটি বার্তা যে, নিজের পেশা বা কাজের প্রতিটি নিয়মকানুন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা কতটা জরুরি!





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ