ফুটবল বিশ্বে বয়স যেন কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে বয়স যখন ৩৯ ছুঁয়েছে, অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন জাদুকরের পায়ের জাদু এবার গোধূলি বেলায়! কিন্তু লিওনেল মেসি যেন এক বাস্তব রূপকথার নায়ক, যিনি বারবার ফিরে আসেন নতুন কোনো চমক নিয়ে। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য— রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এবারও দাপটের সাথে এগিয়ে গেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
প্রথম ভোটেই বাজিমাত!
মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের লড়াইয়ে এরই মধ্যে প্রথম সুখবরটি চলে এসেছে সুদূর ইকুয়েডর থেকে। দেশটির অফিশিয়াল জুরি তাঁর মহামূল্যবান প্রথম ভোটটি দিয়েছেন মেসিকেই।
ঘানার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েন ডট কম ডট জিএইচ’ (YEN.com.gh)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেডিও ক্যারাভানার প্রবীণ সাংবাদিক ও জুরি পাত্রিসিও কর্নেহো গার্সেস তাঁর ব্যালটের একদম শীর্ষে রেখেছেন মেসিকে। আর এই শীর্ষস্থানের সুবাদে মেসি শুরুতেই নিশ্চিত করেছেন সর্বোচ্চ ১৫ পয়েন্ট!
সাংবাদিক পাত্রিসিও নিজেই গণমাধ্যমকে অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সাথে নিশ্চিত করে বলেছেন, "২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের জন্য আমার প্রথম পছন্দের ভোটটি আমি লিওনেল মেসিকেই দিয়েছি।"
কী বলছে ব্যালন ডি’অরের নিয়ম?
ফ্রান্স ফুটবলের নিয়মানুযায়ী, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিকরাই কেবল এই ব্যালন ডি’অরের ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। বর্তমানে ইকুয়েডর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৫তম স্থানে অবস্থান করায় পাত্রিসিও এই সম্মানজনক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন।
৩৯ বছরেও পরিসংখ্যানের রাজা
কেন মেসি এই বয়সেও সবার সেরা? উত্তর লুকিয়ে আছে তার পায়ের জাদুতে আর খাতা-কলমের পরিসংখ্যানে। এই ৩৯ বছর বয়সে এসেও তিনি যে জাদু দেখিয়েছেন, তা হার মানাবে যেকোনো তরুণ ফরোয়ার্ডকেও:
মাঠে নেমেছেন মোট ৪৯টি ম্যাচে।
প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছেন অবিশ্বাস্য ৪৫ বার!
সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন (অ্যাসিস্ট) ৩০ বার।
ক্লাব ফুটবলের এই চোখ-ধাঁধানো পরিসংখ্যান তো রয়েছেই, এর বাইরেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর অবিস্মরণীয় প্রভাব ও নেতৃত্ব তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পারফর্মিং খেলোয়াড়ের আসনে বসিয়েছে। আর ঠিক এ কারণেই ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত মর্যাদার এই পুরস্কারটি আবারও জাদুকরের হাতে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
জীবনের পাঠ: ইচ্ছাশক্তিই সফলতার মূল চাবিকাঠি
মানুষের বয়স বা পরিস্থিতি কখনোই তার স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না। ৩৯ বছর বয়সে একজন ফুটবলারের যেখানে বুট জোড়া তুলে অবসরে যাওয়ার কথা, সেখানে লিওনেল মেসি বিশ্বের সেরা হওয়ার দৌড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটি আমাদের শেখায়— কাজের প্রতি একাগ্রতা, নিজের ওপর অগাধ বিশ্বাস এবং নিরলস পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বয়সেই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানো সম্ভব। আপনার লক্ষ্য যদি স্থির থাকে এবং কাজকে যদি ভালোবাসতে পারেন, তবে পৃথিবীর কোনো বাধাই আপনাকে থামাতে পারবে না।
0 Comments